ওয়েব ডেস্ক : বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় থাকা কর্নাটকের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র হাম্পিতে ক্যাফে, বিশ্রামাগার এবং অন্যান্য পর্যটন-সুবিধা চালু করেছে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া (এএসআই)। এতদিন এইসব সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল হাম্পি। এর কারণ, বিজয়নগর সাম্রাজ্যের ধ্বংসাবশেষের সুরক্ষার দিকে লক্ষ্য রেখে হাম্পি শহরে এসব কিছু করেনি সরকার। সূত্রের খবর, আগামীদিনে একটি সম্পূর্ণ রেস্তোরাঁ এবং থাকার সুবিধার মতো পরিষেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে প্রশাসন। বিট্টলা মন্দির চত্বরের কাছে দুটি স্থানে এবং উগরা নরসিংহ মন্দিরের কাছাকাছি একটি স্থানে খাবারের দোকান তৈরি করা হবে বলেও জানা গিয়েছে। এখন সেখানে এএসআই-এর ব্যবস্থাপনায় চা, কফি, নারকেল এবং হালকা স্ন্যাকসের একটি দোকান আছে। তবে খুব শিগগিরই পর্যটকদের জন্য অস্থায়ী আবাসের ব্যবস্থা করবে এএসআই। হাম্পির দর্শনার্থীরা শিগগিরই পরিষ্কার বিছানা, স্বাস্থ্যকর টয়লেট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা-সহ অস্থায়ী আবাস পাবেন। জানা গিয়েছে, স্বতন্ত্র হাম্পি স্থাপত্য শৈলীতে নির্মিত হবে পর্যটকদের জন্য অস্থায়ী বাসস্থান। পাশাপাশি পর্যটকদের স্বাস্থ্যসম্মত এবং সদ্য প্রস্তুত খাবার পরিবেশনের লক্ষ্য নিয়ে রেস্টুরেন্ট প্রতিষ্ঠা করবে এএসআই। এএসআই-এর এক কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমকে জানান, হাম্পিতে দুটি ক্যাফে উদ্বোধন করা হয়েছে। পুরো ঐতিহাসিক শহর জুড়ে অতিরিক্ত আউটলেট চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে এক কাপ চা বা কফি ভারতীয় মুদ্রায় ১০ টাকা থেকে ২০ টাকায় পাওয়া যাবে। হালকা টিফিনের জন্য পাওয়া যাবে পাফ এবং সিঙ্গারা। এছাড়া ঠান্ডা পানীয় জলের বোতলও কিনতে পারবেন পর্যটকরা।
কর্ণাটকের ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হাম্পি একটি সুন্দর ঐতিহাসিক অঞ্চল। বেঙ্গালুরু থেকে ৩৫৩ কিলোমিটার দূরে তুঙ্গভদ্রা নদীর তীরে অবস্থিত হাম্পি।এটি অসংখ্য পৌরাণিক কাহিনীর সঙ্গে জড়িত একটি পবিত্র ভূমি। প্রাক্তন বিজয়নগর সাম্রাজ্যের রাজধানী হাম্পি এখন সংস্কৃতি, স্থাপত্য এবং ইতিহাসের একটি বিশাল উন্মুক্ত জাদুঘর। ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের তালিকার একটি অংশ, হাম্পির ধ্বংসাবশেষের মধ্যে মন্দির, প্রাসাদ এবং বাজারের স্থান রয়েছে। ২৫ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চল। এটি কেবল একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, অধ্যয়ন এবং গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যও।
হাম্পিতে কি দেখবেন?
বিজয়নগর শাসকদের প্রধান দেবতা ভগবান বিরূপাক্ষ। বিরুপাক্ষ মন্দির একটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান এবং হাম্পির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।পাশাপাশি রয়েছে হাম্পি বাজার।বিরূপাক্ষ মন্দিরের সামনে এক কিলোমিটার দীর্ঘ দোকানের সারি প্রমাণ করে যে, শতবর্ষ আগে একটি সমৃদ্ধ বাজার ছিল৷ শুধুমাত্র ধ্বংসাবশেষ থাকলেও এখানে পর্যটকদের ভিড় হয় এবং এই বাজার অত্যন্ত জনপ্রিয়। রাস্তার পশ্চিম প্রান্ত প্রধানত ছোট দোকান এবং রেস্তোরাঁর মালিকে ভরা।স্থানীয় কেনাকাটার অভিজ্ঞতা নেওয়া এবং হাম্পির ধ্বংসাবশেষের প্রতিরূপ-সহ কিছু আকর্ষণীয় সংগ্রহযোগ্য জিনিস কেনাকাটা করার জন্য এটি একটি দুর্দান্ত জায়গা। এছাড়াও রয়েছে ভিট্টলা মন্দির ও এর ভিতরে থাকা পাথরের রথ, শশীভেকালু গণেশ, রাণীর স্নানঘর,হাতির আস্তাবল এবং প্রত্নতাত্ত্বিক যাদুঘর।প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘরে ভাস্কর্য এবং প্রাচীন জিনিসগুলির একটি মূল্যবান সংগ্রহ রয়েছে।
কিভাবে যাবেন?
হাম্পি থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরত্বে রয়েছে হোসপেট রেলওয়ে স্টেশন। ৬০ কিলোমিটার দূরে বেল্লারি বিমানবন্দর।
জেনে রাখুন, হাম্পি ভ্রমণের উপযুক্ত সময় সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস।


