কলকাতাতেই প্রায় ২৫০ বছরের প্রাচীন শিবমন্দির, না দেখে থাকলে ঘুরে আসুন
ওয়েব ডেস্ক : কলকাতা শহরেই রয়েছে প্রায় ২৫০ বছরের প্রাচীন ভূকৈলাশ শিবমন্দির। না দেখে থাকলে আর দেরি করবেন না, এখনই ঘুরে আসুন। কলকাতার দক্ষিণ দিকে ভারতের প্রাচীনতম নদী বন্দর খিদিরপুর। অনেকেই জানেন না যে, এই খিদিরপুরেই রয়েছে একটি বিশাল মন্দির কমপ্লেক্স। ভূকৈলাস শিবমন্দির কমপ্লেক্স। আর এই মন্দির কমপ্লেক্সে পূর্ব ভারতের সবচেয়ে বড় দুটি শিবলিঙ্গ রয়েছে। কমপ্লেক্সে রয়েছে একটি জলাশয়ও। কাছেই রয়েছে সস্তায় ইলেকট্রনিক পণ্য বিকিকিনির জন্য পরিচিত ও বিখ্যাত ফ্যান্সি মার্কেট। জানা গিয়েছে, সম্ভবত ১৭৮১ সাল নাগাদ এই মন্দির কমপ্লেক্স নির্মাণ করেন রাজা জয়নারায়ণ ঘোষাল। তাঁর জন্ম ১৭৫২ সালে। একজন মুঘল শাসকের কাছ থেকে তিনি ‘রাজা’ উপাধি পেয়েছিলেন। তিনি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসা করে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন। বাংলা ছাড়াও ইংরেজি, সংস্কৃত, হিন্দি, আরবি এবং ফারসি-সহ আরও কয়েকটি ভাষা আয়ত্ত করেছিলেন রাজা জয়নারায়ণ ঘোষাল। তিনি মহান সংস্কারক রাজা রামমোহন রায়ের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন এবং বাংলার সমাজ সংস্কারে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। খিদিরপুর ট্রাম ডিপোর বিপরীতে এই মন্দিরের একটি গেট রয়েছে। একটি বাঁকানো রাস্তা একটি ড্রাম হাউস বা ‘নহবত খানা’র মধ্য দিয়ে মন্দির চত্বরে যাওয়া যায়। একসময় ১০৮ বিঘা এলাকা জুড়ে ছিল এই মন্দির কমপ্লেক্স। কিন্তু এখন এর বেশিরভাগই ব্যাপকভাবে দখল করা হয়েছে। রাজবাড়ি এবং মন্দির চত্বরের মাঝে এখন একটি রাস্তা করা হয়েছে।
দুর্ভাগ্যজনক যে, এই মন্দির এবং রাজবাড়ি বছরের পর বছর অবহেলার সাক্ষী ছিল। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর বহু অংশ ভেঙে পড়েছে। ২০১৩ সালে ঐতিহাসিক মন্দির পুনরুদ্ধারের কাযে হাত দেয় কলকাতা পুরসভা। মন্দির, পুকুর এবং আশেপাশের এলাকা সংস্কার করা হয়। কিন্তু এর গঠনশৈলী পুনরুদ্ধার না করেই পুনর্নির্মাণ করা হয় বলে অভিযোগ। ২০১৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বলিউডের ‘ড্রিম গার্ল’ হেমা মালিনীর উপস্থিতিতে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এই মন্দির কমপ্লেক্স। এই মন্দির কমপ্লেক্সের দুটি মন্দিরে পূর্ব ভারতের উচ্চতম দুটি শিবলিঙ্গ রয়েছে। পূর্বদিকের লিঙ্গটির নাম রক্তকমলেশ্বর এবং পশ্চিমের লিঙ্গটির নাম কৃষ্ণচন্দনেশ্বর। মন্দিরে পোড়ামাটির কোন কাজ নেই, তবে স্টুকো অলঙ্করণের চিহ্ন দেখা যায়। দুটি মন্দিরের মাঝখানে নন্দীর ষাঁড়ের একটি বড়ো মূর্তি রয়েছে। সম্প্রতি এই মূর্তিটি বসানো হয়েছে। পুকুরটি দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত এবং এর বাইরে একটি গম্বুজযুক্ত প্যাভিলিয়ন রয়েছে। যেখানে রয়েছে জয়নারায়ণ ঘোষালের আবক্ষ মূর্তি। যদিও পর্যটকদের অভিযোগ, বেশিরভাগ সময় তালা এবং চাবির নিচে থাকে ওই প্যাভিলিয়ন। রাস্তার ধারে রয়েছে ভূকৈলাশ রাজবাড়ি। রাজবাড়িতে পারিবারিক দেবতা মহিষাশুরমর্দিনীর মূর্তি রয়েছে। জানা যায়, জয়নারায়ণ ঘোষালের তৈরি রাজবাড়ি কমপ্লেক্সটি ১৭৮২ সালের এবং এর কিছু অংশ এখনও ঘোষাল পরিবারের দখলে রয়েছে। এখন রাজবাড়িটি শুটিংয়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখানে বেশ কয়েকটি বাংলা সিরিয়ালের শুটিংও হয়েছে বলে খবর। জানা গিয়েছে, শুটিং হওয়ার কারণে রাজবাড়িটি পরিষ্কার রাখা সম্ভব হয় এবং পাশাপাশি আয়ও হয়। রাজবাড়ির ছোট্ট উঠোনের চারপাশ জুড়ে রয়েছে উপাসনালয় এবং থাকার জায়গা। একটু দূরে জরাজীর্ণ নাচঘর। যদিও নাচঘর আর আস্ত নেই। ধসে পড়েছে এর ছাদ। এখনও ভূকৈলাশ মন্দির অনেকের কাছেই অজানা। তাই কলকাতার বাইরেরর লোকজন এই মন্দিরে খুব কমই আসেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় এখানে লেগেই থাকে। সকালে এবং সন্ধ্যায় স্থানীয় ছেলেমেয়েরা এই মন্দির কমপ্লেক্সে ক্রিকেট এবং ব্যাডমিন্টন খেলে। শিবরাত্রির সময় প্রচুর ভিড় হয়। ফলে এই মন্দির দেখতে আর দেরি করবেন না।
Bhukailas # Shivtemple # Khidirpur # Kolkata # Highest # Lingas # Oldest # Bengali # Travel # News # Flavourofbengal